আমন ধানের শস্য বিমার সময়সীমা বাড়ল
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আমন ধানের শস্য বিমা করার সময়সীমা বেড়ে হল ৩০ সেপ্টেম্বর। এই সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে এই সময়সীমা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছিল। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের অনুরোধে রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যাগ্রিকালচার ইনসিওরেন্স কোম্পানি অব ইন্ডিয়া প্রথমে সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর করেছিল। এরপর সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর করা হল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৭১ লক্ষের মতো।
সূত্রের আরও খবর, ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ কৃষক খরিফ মরশুমে শস্য বিমা করিয়েছিলেন। অন্যদিকে অ্যাগ্রিকালচার ইনসিওরেন্স কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা শস্য বিমা প্রকল্পে এই সংখ্যা বেড়ে ৬১ লক্ষ অতিক্রম করেছে। প্রকল্পের সময়সীমা বেড়ে যাওয়াতে আরও কৃষককে এই প্রকল্পের অধীনে আনা সম্ভব হবে। উল্লেখ করা যায়, গত বছরের শস্য বিমা প্রকল্পে নথিভুক্ত কৃষকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৪ লক্ষ। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই শস্য বিমায় প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণটা রাজ্য সরকার বহন করে।
এ বিষয়ে আরও জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের শস্য বিমা প্রকল্প রাজ্যে চালু ছিল। সেক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের একটা অংশ কৃষকের দেওয়ার কথা ছিল। রাজ্য সরকার কৃষকের অংশের প্রিমিয়াম দিয়ে দিত। উল্লেখ্য, এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য আলাদা বিমা চালু করে। বাংলা শস্য বিমা প্রকল্প চালু হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ধান, পাট, ভুট্টা ও গমের জন্য কৃষকদের কোনও প্রিমিয়াম দিতে হয় না। এক্ষেত্রে বেশি সংখ্যক কৃষক যাতে এই বিমার অধীনে আসতে পারে, তার জন্য খরিফ মরশুমের প্রথম থেকে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।
আবার রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত সব কৃষক গত বছর শস্য বিমা করিয়েছিলেন। এবারের খরিফ মরশুমে বিমার অধীনে চলে এসেছেন কৃষকরা। কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নথিভুক্তের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লক্ষ। এর বাইরে থাকা কৃষকরাও যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষি দপ্তর ছাড়াও বিমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকছেন। কৃষকদের নাম নথিভুক্ত হচ্ছে অনলাইনেও।

